অমিত শাহ এর বাংলার সংকল্প পত্রে মাস্টারস্ট্রোক ; দিশেহারা মমতার TMC, বিজেপি ১১ টি  নতুন  প্রকল্পের ঘোষণা,  বাবরি মসজিদ না তৈরি করতে দেয়ার সংকল্প  শাহের

অমিত শাহ এর বাংলার সংকল্প পত্রে মাস্টারস্ট্রোক দিশেহারা মমতার TMC , শুক্রবার নিউটাউনে সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ গরিব, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত ঘরের মহিলাদের জন্য ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করেন এবং কাজের খোঁজে থাকা যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতার কথা ঘোষণাকরেন।   হুমায়ুন কবীর-বিতর্কে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বলেন ২০ বছর বিরোধী আসনে বসে থাকব, তবু বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাওয়া দলের সঙ্গে হাত মেলাব না।

বিজেপির সংকল্প পত্র   

পশ্চিমবঙ্গের জন্য অমিত শাহের নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে বিজেপি এমন এক কৌশল অবলম্বন করেছে, যার লক্ষ্য হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং যে অস্ত্র তৈরি করেছিলেন, ঠিক সেই অস্ত্রটিকেই ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করা।

অমিত শাহ এর আগে বলেছিলেন যে, দলের ইশতেহারের মূল ফোকাস—এবং এই নির্বাচনের কেন্দ্রীয় বিষয়—হবে “পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের জন্য একটি রূপরেখা”। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর প্রকাশিত বিজেপির ইশতেহারটি প্রকৃতপক্ষে রাজ্যের “ভবিষ্যতের” জন্য একটি “রূপরেখা”ই তুলে ধরেছে। তবে, এর মধ্যে আরও বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বিভিন্ন ধরণের আর্থিক ভাতার প্রতিশ্রুতি। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এমন সব আর্থিক সহায়তা ও ভাতার ঘোষণা দিয়েছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বর্তমানে চালু রাখা সহায়তাগুলোর তুলনায়—বৈচিত্র্য ও পরিমাণ—উভয় দিক থেকেই বহুগুণ বেশি।

শাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। বলেন, ‘‘আমরা যেখানেই ক্ষমতায় এসেছি, গরিবদের জন্য করা পূর্বতন সরকারের কোনও প্রকল্প বন্ধ করিনি। মাছ-ডিমও বন্ধ হবে না।’

দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হবে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়া হবে। কলকাতাকে সারা বিশ্বের সামনে ‘লিভিং সিটি’ হিসাবে প্রকাশ করা হবে। শাহ বলেন, ‘‘ভয়রহিত বাংলা গড়া আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া— আমাদের সংকল্পপত্রের মূল ভাব এটাই। গত প্রায় পাঁচ দশক বাংলাকে শুধু নীচে নামানো হয়েছে। আমরা বাংলায় আবার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আনব। দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য বানাব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ মুক্তি, শিল্পোন্নয়ন, কৃষকের উন্নয়নে জোর দেবে নতুন সরকার

অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্বাচনী সঙ্কল্পপত্র ঘোষণার মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা অস্ত্রেই TMC কে হারানোর কৌশল নিল বিজেপি।

অমিত শাহ আগেই বলেছিলেন আমাদের সঙ্কল্পপত্রে ‘‘ভবিষ্যতের পশ্চিমবঙ্গের রোডম্যাপ নিয়ে এ বারের নির্বাচনে কথা হবে।’’ তাঁর প্রকাশ করা বিজেপির ইস্তেহারটিতে পশ্চিমবঙ্গের ‘আগামী’র জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 বিজেপির নির্বাচনী সংকল্প পত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় :

(১) পাঁচ বছরে ১ কোটি চাকরির ব্যবস্থা করা। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে প্রদান

(২) অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা

(৩) মহিলাদের স্বনির্ভরতার জন্যে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা প্রদান

(৪) তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ

(৫) কাটমানি , সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ করা

(৬) রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে DA প্রদান ও সপ্তম পে কমিশন এর বাস্তবায়ন

(৭) মহিলা পুলিশ বেটেলিয়ন ” দূর্গা সুরক্ষা বাহিনী ” . চাকরিতে মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণ

(৮) আলু ,ধান ও আম চাষীদের ফসলের উচিত দাম

(৯) মৎস্য রপ্তানি কেন্দ্র ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলা

(১০) অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন প্রনয়ণ করা ও গোতস্করী বন্ধ করা

(১১) দার্জিলিং টি কে বিশ্ব দরবারে ব্র্যান্ডিং করা

(১২) আয়ুষ্মান ভারত সহ অন্যান্য সমস্ত কেন্দ্রীয় যোজনা লাগু করা

(১৩) স্বাধীন ভাবে ধর্মাচরণে এর জন্য আইন প্রনয়ণ করা

তৃণমূল এর অভিযোগ হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন আঁতাঁত

গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল একটি সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন আঁতাঁত’-এর অভিযোগ তোলে।  হুমায়ুনের ‘গোপন কথা’র  ১৯ মিনিটের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করে, বিজেপির কাছে এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন। তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা আগে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও ভিডিয়োতে দিতে দেখা গিয়েছে হুমায়ুনকে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি Newsi১৮.com )। তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হওয়ার পর হুমায়ুন নিজস্ব দল তৈরি করে বিধানসভা ভোটে লড়ছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের দেওয়া ভিডিয়োটি AI -এর সাহায্যে বানানো। অভিযোগ প্রমাণ করতে না-পারলে শাসকদলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বিজেপির ও  হুমায়ুন কবীর যোগাযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, ‘‘মমতাজির ক্ষমতা সম্পর্কে আপনাদের কোনও ধারণা নেই। উনি এমন ২০০০টি ভিডিয়ো বানাতে পারেন। কিন্তু হুমায়ুন কবীর আর বিজেপি আদর্শগত ভাবে উত্তরমেরু এবং দক্ষিণমেরু। আমাদের মধ্যে কখনও বোঝাপড়া হতে পারে না। যারা পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চায়, তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর চেয়ে ২০ বছর বিরোধী আসনে বসা আমাদের কাছে শ্রেয়।

Leave a Comment