SIR ট্রাইবুনাল গঠিত হলো কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, সহ ১৯ জন বিচারপতি নিয়ে। ইলেকশন কমিশন রাজ্যের আরও কয়েক জন আধিকারিককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া গেছে ভিন্রাজ্যে, আরো কয়েক জনকে সারানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। মমতার অভিযোগ ” রাষ্ট্রপতি শাসনে ” ভোট হচ্ছে।

Table of Contents
হাই কোর্টের ট্রাইবুনাল গঠন
কলকাতা হাইকোর্ট বেশ কিছু ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। রাজ্যের ভোটার তালিকাগুলোর ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ঘোষণা করেছে—যেগুলোর প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি রয়েছেন—এবং এই ট্রাইব্যুনালগুলো রাজ্যের ২৩টি জেলার কার্যক্রম দেখভাল করবে। এই ট্রাইব্যুনালগুলোতে মোট ১৯ জন বিচারপতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম, এবং প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ, বিশ্বজিৎ বসু ও সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।
এই ট্রাইবুনালে আপিল করা যাবে, যদি কোনও ভোটারের নাম তালিকায় না তোলা হয় বা কেটে যায় , তবেই। এছাড়া SIR এ সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে নাম না থাকে সেক্ষেত্রে সেখানে আপিল করা যাবে। দু’টি উপায়ে আপিল করা যাবে,(১) অনলাইনে, (২) অফলাইনে। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ বা ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন করা যাবে। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমাশাসকের কাছে অফলাইনেও আবেদন করা যাবে SIR এ যদি নাম না থাকে । এই ট্রাইবুনাল এখন থেকেই কাজ শুরু করতে পারবে এবং সব আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এই ট্রাইবুনাল আর থাকবে না।
ALSO READ : সুপ্রিম কোর্টের কঠোর ভর্ৎসনা মমতার রাজ্য সরকারকে ; I-PAC মামলায় রাজ্যের আবেদন খারিজ

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইলেকশন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে,
দক্ষিণ দিনাজপুরে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি তৌফিক উদ্দিন, মুর্শিদাবাদে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ, হুগলিতে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি মহম্মদ মুমতাজ খান, পশ্চিম বর্ধমানে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি মির দারা শেকো। উত্তর দিনাজপুরে ভোটারদের আপিল শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে, মু্র্শিদাবাদে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, বীরভূমে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি মনোজিৎ মণ্ডল, মালদহে শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায়, চৌধুরী।
কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভোটারদের আপিল শুনবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। উত্তর ২৪ পরগনার মানুষজনের আপিল শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি প্রদীপ্ত রায়। পূর্ব মেদিনীপুরের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন, কোচবিহারের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি প্রণবকুমার দেব, নদিয়ার জন্য প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায়, হাওড়ায় আপিল শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি অশোককুমার দশাধিকারী। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের ভোটারদের আপিল শুনবেন প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বার্তী,
” রাষ্ট্রপতি শাসন ” হারার ভয়ে অভিযোগ মমতার
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতাআক্রমণ করেন, বিধানসভা ভোটের আবহে রাজ্যে একের পর এক আমলা এবং পুলিশ আধিকারিকের বদলি নিয়ে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে এক সঙ্গে। দলের ইস্তাহার প্রকাশের কর্মসূচি থেকে ‘নয়া’ অভিযোগ করলেন তৃণমূলনেত্রী। তার পর রাজ্য ভাগের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, ” পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন ” জারি হয়ে গিয়েছে!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
মমতার হারার ভয়ে অভিযোগ “রাষ্ট্রপতি শাসনের” মধ্যে ভোট হচ্ছে নাকি !
মমতা বলেন, “তারা ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিয়েছে”—একই সঙ্গে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা ও আমলাদের বদলির ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। তিনি আরও যোগ করেন, “যদিও তারা মুখে তা স্বীকার করছে না, কিন্তু তাদের আচরণেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “নির্বাচন চলাকালীন নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে বদলি করা একটি প্রচলিত রীতি।” যদিও নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে, তবুও তা নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধের অধীন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আমলা বা পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ থাকতে হয়। তা ছাড়া যাঁরা নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকেন, তাঁদের বদলি হয়। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে যে ভাবে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তার বদলি করা হচ্ছে, তাতে রাজ্য বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ খাদ্য পাবে কোথা থাকে? রেশন বন্ধ হয়ে গেলে যেন আমাকে দোষ দেবেন না। আমি তো রেশন দিতে চাই। কিন্তু এখানকার ফুড ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে নিয়ে গিয়েছে অবজ়ার্ভার করে।
শুক্রবারের সেই কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের প্রসঙ্গে,তিনি জানান, সূত্র মারফত তাঁর কাছে খবর আছে, প্রায় ৬০ লক্ষের মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই ২২ লক্ষ ৬০ হাজারের মধ্যে ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়বে বলে জানতে পেরেছেন। সেখানে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুরের একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বেশি বাদ পড়েছে। এ ছাড়া হিন্দু, মতুয়া, রাজবংশী সম্প্রদায়েরও মানুষও রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানান, তিনি শুনেছেন, রাজ্যের আরও কয়েক জন আধিকারিককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে ভিন্রাজ্যে। তাঁদের বদলে যাঁদের আনা হচ্ছে, তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। মমতা অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘তাঁরা এখানকার মানুষকে চেনেন না, এখানকার ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি জানেন না। নির্বাচনী বুথ, ব্লক, জেলা সম্পর্কে ধারণা নেই। কে দেখবে এ সব?’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘তার পর যদি কোনও ঘটনা ঘটে, এ জন্য দায়ী থাকবে বিজেপি সরকার। কারণ, নির্বাচন কমিশন বিজেপি সরকারের বাইরে নয়। তাদের তোতাপাখি।’’ তার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘লজ্জা! প্রেসিডেন্ট রুল করে মোদীজিকে বাংলায় নির্বাচন করাতে হচ্ছে! বাংলার মানুষকে এত ভয়!’’