প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঝালমুড়ি খেলো ,ঝালে লাল হলো মমতা। হারের ভয়ে  ভবানীপুরের ঘরে ঘরে প্রচার মমতার

ঝালমুড়ি

পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে সভার শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় । এখন ওই ভাইরাল ভিডিও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে একটি ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে দোকানটিতে আগে থেকেই ক্যামেরা বসানো ছিল এবং এসপিজি-ই ঝালমুড়িটি তৈরি করেছিল। ভবানীপুরে হারের ভয়ে  মমতার ঘরে ঘরে প্রচার।

আরও পড়ুন : অমিত শাহ এর বাংলার সংকল্প পত্রে মাস্টারস্ট্রোক ; দিশেহারা মমতার TMC, বিজেপি ১১ টি  নতুন  প্রকল্পের ঘোষণা,  বাবরি মসজিদ না তৈরি করতে দেয়ার সংকল্প  শাহের

মমতার নিশানায় মোদীর ঝালমুড়ি ভিডিও

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। গতকাল ঝাড়গ্রামে সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  একাধিক জনসভা করেন । ঝাড়গ্রামে জনসভার পর প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদী একটি দোকান থেকে  ঝালমুড়ি খান ও ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। মোদীজির সেই  ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে । তবে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তুষ্ট হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণে  এবং তিনি তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি পুরো ঘটনাটিকে একটি নাটক বলে অভিহিত করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া এবং ঝালমুড়ির দোকানদার বিক্রম -এর মধ্যেকথাবার্তা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন এমন একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয় , যেখানে ঝালমুড়ির দোকানে আগে থেকেই একটি মাইক্রোফোন লাগানো ছিল এবং তারপর এসপিজিকে দিয়ে ঝালমুড়ি তৈরি করানো হয়। মমতা আরও কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচনের সময় কখনও তিনি গুহায় যান, আবার কখনও নিজেকে চা বিক্রেতা বলে দাবি করেন।

১০ টাকার ঝালমুড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সেটি তো তাঁর জন্য আগে থেকেই তৈরি করা ছিল। যদি তা না হয়, তাহলে দোকানের ভেতরে ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল কেন? তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, এই সবকিছু যদি নাটক না হয়, তাহলে এটা কী?

ইভিএম টেম্পারিংয়ের অভিযোগ

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝালমুড়ি ভিডিও কে আক্রমণ করেই থামেনি ,তিনি আরও  আক্রমণ করে বলেন, “ওরা যেখানেই সমাবেশ করে, সেখানেই ট্রেনে করে লোক আনে। বাইরে থেকে ভিড় জড়ো করা হয়। ওদের নিজস্ব কোনো সমর্থক গোষ্ঠী নেই এবং ওরা শুধু চাপ প্রয়োগের রাজনীতি করে।” নির্বাচনের আগে জনগণকে সতর্ক করে মমতা বলেন যে, তিন সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আবার সরকার গঠন করবে, তাই ইভিএমের দিকে কড়া নজর রাখুন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইভিএম লুট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই সতর্ক থাকুন। মুখ্যমন্ত্রী জনগণের কাছে সমর্থনের জন্য আবেদনও করেন।

ভবানীপুরে মমতার ঘরে ঘরে প্রচার

আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ ভবানীপুর কেন্দ্রে। নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরে হারার ভয়ে সোমবার সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা এলাকায় নিবিড় জনসংযোগে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

সোমবার সন্ধ্যায় শেক্সপিয়র সরণিতে একটি নির্ধারিত নির্বাচনী সভা শেষ করেই মমতা সোজা চলে যান ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে গঙ্গা-যমুনা, শ্যামকুঞ্জ, ভিক্টোরিয়া এবং ডিম্পল কোর্ট-সহ মোট পাঁচটি বড় আবাসনে প্রচার চালান।  এই নিবিড় কর্মসূচিতে তিনি প্রতিটি আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেন আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচির সময় সংবাদমাধ্যমকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অত্যন্ত ঘরোয়া মেজাজে ওই বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন তিনি।

তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে প্রতিদিন একাধিক জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এরপর দক্ষিণ কলকাতা পৌঁছে যান। সোজা চলে যান সেক্সপিয়র সরণি। সেক্সপিয়র সরণি থানার উল্টোদিকে একটি সভা করেন তিনি। তবে সেই সভা অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা। কারণ, কোনও মঞ্চ নয়, একজন দাঁড়াতে পারবে এমন ছোট্ট একটি জায়গা স্টেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিছু সময় বক্তব্য রাখেন সুপ্রিমো .

ভবানীপুর বিধানসভার ভোটারদের কাছে বিধায়ক হিসাবে নিজের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন। গত ১৫ বছরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং সামগ্রিক ভাবে কলকাতার উন্নয়নে তাঁর সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা পুরসভার পুর পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের মতামত জানতে চান। তিনি সরাসরি তাঁদের থেকে জেনে নেন যে নিয়মিত জল, আলো বা সাফাইয়ের মতো পুর পরিষেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না সে বিষয়ে । আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় ফিরলে এই এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে আর কী কী ‘বৃহত্তর পরিকল্পনা’ রয়েছে, তারও আভাস দেন ।

‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেন শুরু করলেন তিনি। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের একাধিক আবাসনে ঢুকে প্রচার করতে দেখা গেল তাঁকে। লর্ড সিনহা রোডের হাইরাইজ, সেক্সপিয়র সরণির আবাসনে গিয়ে নিজের ভোটের প্রচার সারলেন তিনি। 

Leave a Comment